আন্তর্জাতিক এশিয়া

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন যেসব দেশের নেতা ও প্রতিনিধিরা

Masud Pervez

প্রকাশ : ৪-৭-২০২৬ ইং | নিউজটি দেখেছেনঃ ৫০৭৬

তেহরান: ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ইরানের রাজধানী তেহরানে শুরু হওয়া এই শোকানুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে রাষ্ট্রপ্রধান, সংসদীয় প্রতিনিধি, মন্ত্রী, কূটনীতিক এবং ধর্মীয় নেতারা অংশ নিচ্ছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি এবং প্রায় ৩০টি দেশের উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধি দল দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছে। এই অনুষ্ঠানকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম, এমপি-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছেছে। তিনি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ এবং দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।

চীন

চীনের প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশটির ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হে ওয়েই। বেইজিং জানিয়েছে, দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছে।

রাশিয়া

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত হিসেবে দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। মস্কো এই সফরকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছে।

পাকিস্তান

পাকিস্তান থেকেও একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছেছে। ইসলামাবাদ ইরানের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ভারত

ভারত থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ দাফন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইরাক, আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলো

ইরাকের সরকারি ও ধর্মীয় প্রতিনিধি, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের প্রতিনিধি দল এবং তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, আর্মেনিয়া, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও তেহরানে উপস্থিত রয়েছেন।

ঐতিহাসিক শোকানুষ্ঠান

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাফন উপলক্ষে কয়েক দিনব্যাপী শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। তেহরানে মরদেহে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিভিন্ন ধর্মীয় শহরে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। পরে খামেনিকে তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফন করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠান কেবল একটি ধর্মীয় বা জাতীয় আয়োজন নয়; বরং এটি ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সেই গুরুত্বকেই আরও স্পষ্ট করেছে।