রাজধানীর কনভেনশন হলে ৪০০ নেতাকর্মীর প্রশিক্ষণ; নেতৃত্বে ছিলেন সোহেল রানা ও শম্পা, ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত হামলার শঙ্কা
দেশকে অস্থিতিশীল করে কার্যত নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার গোপন পরিকল্পনার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে গোপন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, যাতে অংশ নিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ৪০০ নেতাকর্মী।
প্রশিক্ষণটি অনুষ্ঠিত হয় গত ৮ জুলাই সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এই পরিকল্পনার নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগ নেতা বাহাউদ্দিন নাছিম ও শেখ হাসিনার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শেখর, যারা বর্তমানে বিদেশে পলাতক। দেশীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেন সোহেল রানা ও শামীমা নাসরিন শম্পা।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জের বাসিন্দা এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত শম্পা হল বুকিং দেন ‘জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ’ নাম দিয়ে। সোহেল রানার নেতৃত্বে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের প্রত্যেকে ছদ্মনামে রেজিস্ট্রেশন করেন—কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউ কার্পেন্টার বা শ্রমজীবী পরিচয়ে।
প্রশিক্ষণে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জনসমাগম ঘটানো, সহিংসতা ছড়ানো, এবং রাজপথে নাশকতা চালানোর কৌশল শেখানো হয়। তাদের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নেওয়া।
ডিবি পুলিশ জানায়, প্রশিক্ষণ শেষে ১৪ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শম্পা ও সোহেল রানাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে দুই দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও আরও কিছু ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সূত্র বলছে, গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই এবং এসবির কাছ থেকেই প্রথম এই পরিকল্পনার তথ্য আসে। এরপরই ডিবি অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা মামলায় বর্তমানে তদন্ত চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশঙ্কা করছে, ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্টের মধ্যে যেকোনো সময় বড় ধরনের হামলা হতে পারে। সেই অনুযায়ী সারা দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, “পরাজিত রাজনৈতিক শক্তির অপতৎপরতার বিষয়ে আমরা অবগত। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছি।”
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, “এই ১১ দিনের সম্ভাব্য হামলার সময় আমরা প্রস্তুত। কোনো ফ্যাসিস্ট চক্রের স্থান ঢাকা রেঞ্জে হবে না। সব এসপিকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”