বাংলাদেশের
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে একটি বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
সংবাদমাধ্যমটি
জানায়, ২০২৪ সালের শিক্ষার্থীদের
আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা
নিরাপত্তা বাহিনীকে ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র’ ব্যবহারের অনুমতি দেন। এমনকি তিনি
বলেন, ‘‘যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই গুলি চালানো হবে।’’
আল জাজিরার ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিট (আই-ইউনিট) বেশ
কয়েকটি গোপন ফোনালাপের রেকর্ডিং
বিশ্লেষণ করে এই তথ্য
নিশ্চিত করেছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় জানা গেছে, এসব
অডিও এআই বা কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি করা হয়নি।
প্রতিবেদনে
বলা হয়, শেখ হাসিনা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনের
চাপে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে ভারত পালিয়ে
যান। আন্দোলন চলাকালীন সময় সহিংসতায় প্রায়
১,৪০০ জন নিহত
ও ২০,০০০ জনের
বেশি আহত হন বলে
জানায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
একটি
কল রেকর্ডে শেখ হাসিনাকে তার
এক সহযোগীকে বলতে শোনা যায়,
‘‘আমি সম্পূর্ণ প্রকাশ্যে নির্দেশ দিয়েছি। এখন তারা প্রাণঘাতী
অস্ত্র ব্যবহার করবে। যেখানেই পাবে, গুলি চালাবে।’’
ঢাকা
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র
ও আত্মীয় শেখ ফজলে নূর
তাপসের সঙ্গে অপর একটি ফোনালাপে
তিনি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের
কথাও বলেন।
যদিও
সরকার হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর
বিষয়টি অস্বীকার করেছে, তবে পপুলার মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শাবির শরীফ জানান, হেলিকপ্টার
থেকে হাসপাতালের প্রবেশপথ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া
হয়। তিনি আরও বলেন,
আহত শিক্ষার্থীদের শরীরে গুলির ক্ষতের ধরণ ছিল অস্বাভাবিক
এবং গুলিগুলো শরীরেই থেকে যায়।
আল
জাজিরার দাবি, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং আগামী আগস্টে
তার বিচার শুরু হওয়ার কথা
রয়েছে। মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও
তার দুই সহযোগী ও
নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদেরও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আরও
এক ফোনালাপে শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক
উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে আবু
সাঈদের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দ্রুত আনতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে
চাপ দিতে শোনা যায়।
রংপুর
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক
ডা. রাজিবুল ইসলাম জানান, পুলিশ তাকে পাঁচবার রিপোর্ট
বদলাতে বলে, যাতে গুলির
চিহ্ন না থাকে। তারা
দাবি করছিল, আবু সাঈদ পাথর
নিক্ষেপে আহত হয়ে মারা
গেছেন, যদিও বাস্তবে তিনি
পুলিশের গুলিতেই নিহত হন।
আবু
সাঈদের পরিবারের সদস্যদের ঢাকায় এনে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে
হাজির করা হয় এবং
একটি টিভি অনুষ্ঠানে অংশ
নিতে বলা হয়। তার
বাবা অভিযোগ করেন, গণভবনে উপস্থিত হতে তাদের বাধ্য
করা হয়েছিল এবং না এলে
নির্যাতনের ভয় দেখানো হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে
শেখ হাসিনা নিহতদের পরিবারের হাতে অর্থ তুলে
দেন এবং ন্যায়বিচারের আশ্বাস
দেন। তবে আবু সাঈদের
বোন সুমি খাতুন সাফ
জানিয়ে দেন, “ভিডিওতে তো দেখা গেছে
পুলিশই গুলি করেছে, এখানে
তদন্তের কী আছে?”
আওয়ামী
লীগের একজন মুখপাত্র আল
জাজিরাকে দেওয়া বিবৃতিতে জানান, শেখ হাসিনা কখনও
প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেননি এবং ফোনালাপ বিকৃত
ও খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি
তারা জানান, আবু সাঈদের মৃত্যুর
তদন্তে সরকার যথেষ্ট আন্তরিকতা দেখিয়েছে।