বাংলাদেশ Bandarban

বান্দরবানের লামায় ভয়াবহ পাহাড়ধস: ঘুমন্ত অবস্থায় দুই পরিবারের পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, অনিন্দ্যবাংলা

প্রকাশ : ৯-৭-২০২৬ ইং | নিউজটি দেখেছেনঃ ৫০৩৬

স্টাফ রিপোর্টার | বান্দরবান

টানা ভারী বৃষ্টিতে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলায় ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় একই এলাকার দুই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের পাঁচ বছরের শিশু সন্তান এবং অন্য পরিবারের স্বামী-স্ত্রী রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

জেলার পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই দফা পাহাড়ধসে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রথম ধসে একই পরিবারের তিনজন নিহত

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় প্রথম পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের মাটি ধসে বসতঘরের ওপর পড়ে গেলে ঘুমন্ত অবস্থায় একই পরিবারের তিন সদস্য চাপা পড়েন।

নিহতরা হলেন মো. ইউনুস (৪০), তাঁর স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং তাঁদের পাঁচ বছরের ছেলে মো. সোলেমান।

বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

দেড় ঘণ্টা পর আরেক ধস, প্রাণ গেল আরও দুইজনের

প্রথম ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, ভোর আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে একই ইউনিয়নের মিশনপাড়া এলাকায় দ্বিতীয়বার পাহাড়ধস হয়। এ সময় একতলা পাকা ঘরে ঘুমিয়ে থাকা স্বামী-স্ত্রী মো. জুয়েল (৩৪) ও কুলছুমা আক্তার (২৫) ঘরের দেয়াল ও ধসে পড়া মাটির নিচে চাপা পড়ে নিহত হন।

খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে।

পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ছে, সতর্ক প্রশাসন

জেলা পুলিশের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, টানা বর্ষণের কারণে বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। পাশাপাশি নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি জনজীবন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার অনেক বাসিন্দাই এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনাগ্রহী। তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে লামা উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারী সবাইকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।