অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি–সংক্রান্ত বিধির অংশবিশেষ অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ।
রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আপিল বিভাগের এ রায় সরকারের পক্ষে এসেছে। ফলে হাইকোর্টের আগের রায় আর বহাল থাকছে না। আইন অনুযায়ী সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা জ্যেষ্ঠতার তালিকায় এগিয়ে থাকবেন, আর জাতীয়করণ হওয়া বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষকদের অবস্থান হবে তাঁদের পরে।
তিনি জানান, এই মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ আটকে ছিল। অনেক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চললেও নিয়মিত নিয়োগ, বদলি ও পদায়ন সম্ভব হচ্ছিল না। আপিল বিভাগের রায়ের ফলে সেই আইনি জটিলতা দূর হলো এবং এখন সরকার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। ওই বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা–সংক্রান্ত ৯(১) বিধির অংশবিশেষ চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে রিট করেন জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।
২০১৯ সালে হাইকোর্ট ওই বিধির অংশবিশেষকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করলে ২০২২ সালে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপক্ষ এবং সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের করা আপিলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে চূড়ান্ত রায় দেন।