দুর্নীতি, জালিয়াতি, সরকারি অর্থ আত্মসাত ও তথ্য গোপনের একাধিক অভিযোগে তদন্তাধীন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক; প্রশাসনের নিরবতা প্রশ্নবিদ্ধ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় ১৩ নম্বর আসামি হওয়া সত্ত্বেও নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বনানী বিশ্বাস। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জালিয়াতি, সরকারি অর্থ আত্মসাত এবং তথ্য গোপনের একাধিক অভিযোগে তদন্ত চলছে। সর্বশেষ, সরকারি গাড়ি ঋণ গ্রহণে জালিয়াতির অভিযোগও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তদন্তের আওতায় এসেছে।
২০২৩ সালের ১ আগস্ট ঢাকা নিউমার্কেট এলাকায় একটি বিক্ষোভে আহত হন মুসফিকুর রহমান। এই ঘটনার সূত্র ধরে দায়ের হওয়া মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করা হয়। মামলার এজাহারে বনানী বিশ্বাসকে ১৩ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও, তিনি ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বনানী বিশ্বাস জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গাড়ি ঋণ সুবিধায় ২০১৫ মডেলের একটি টয়োটা গাড়ি কেনেন, যার জন্য ৩০ লাখ টাকার ঋণ নেন। অথচ এই গাড়িটি তার স্বামীর মালিকানাধীন ছিল। তিনি পুরাতন গাড়ি নিজের নামে স্থানান্তর করে তথ্য গোপনের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ করেন। আয়কর নথি অনুযায়ী, গাড়িটি তিনি ৩১ লাখ টাকায় কিনেছেন দাবি করলেও, তার স্বামী দাবি করেন, বিক্রি হয়েছে ২৫ লাখ টাকায়। এই বৈপরীত্য জালিয়াতির স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে।
বনানী বিশ্বাস ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকাকালে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তাধীন দলিল অনুযায়ী, তিনি কাশর অনন্যা প্রজেক্টে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকায় একটি জমি, মুমিনুন্নেছা কলেজের পাশে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় একটি ফ্ল্যাট এবং ঢাকার ধানমন্ডি ও আশুলিয়ায় জমি কিনেছেন। তার স্বামী ডা. বিবেকানন্দ কির্তনীয়ার নামেও ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে বিনিয়োগ রয়েছে।
বনানী বিশ্বাসের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম জানান, “তার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে, তবে তদন্ত প্রতিবেদন এখনও আসেনি।”
একজন শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এতবড় অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তার পদে বহাল থাকা প্রশাসনের নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। শুদ্ধাচার ও জবাবদিহিতার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ কেমন হবে—তা নির্ভর করছে এই তদন্ত এবং রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের উপর।
আরও তথ্য বা আপডেট পেতে Julyspirit24.com এর সাথেই থাকুন।