জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারে গণতন্ত্রের স্বপ্ন ভেঙে গেছে; জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হলে নির্বাচন অর্থহীন হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম, অনেক দাবি ছিল। কিন্তু আজ সব দাবি যেন শুধুমাত্র নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। আমরা বলেছি, আমরা নির্বাচন চাই—কিন্তু ন্যায্য ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই।”
শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে মৌলভীবাজার শহরের বেড়িরপাড় পয়েন্টে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ শেষে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের স্বপ্ন ছিল আকাশচুম্বী। তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবি, অর্থনৈতিক বৈষম্য বিলোপ, এবং মানবিক মর্যাদার জন্য আমরা রাজপথে নেমেছিলাম। আজও আমাদের সেই দাবিগুলো অধরা।”
নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা মৌলভীবাজারের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “এই জেলার সঙ্গে ভারতের আসাম ও ত্রিপুরা সীমান্ত রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে এ অঞ্চলের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এখন আসামে এনআরসি আইনের মাধ্যমে মুসলমানদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানানো হয়েছে। এটা হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির এক চরম উদাহরণ।”
তিনি বলেন, “বাহাত্তরের সংবিধান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ধ্বংস করে এক দলীয় শাসনের ভিত্তি তৈরি করেছে। গত ৫৪ বছর আমরা সেই সংবিধানের বন্দিত্বে ছিলাম। কিন্তু জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা সেই চক্রান্ত থেকে মুক্ত হতে চাই।”
এর আগে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু হয়, যেখানে সর্বস্তরের ছাত্র ও জনতা অংশ নেন।
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির মৌলভীবাজার জেলার প্রধান সমন্বয়কারী ফাহাদ আলম।
বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—
ডা. তাসনিম জারা (সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব, কেন্দ্রীয় কমিটি),
আবু বাকের মজুমদার (আহ্বায়ক, বাগছাস কেন্দ্রীয় কমিটি),
ডা. জাহেদ (সদস্য সচিব, জাতীয় যুব শক্তি),
মারুফ আল হামিদ,
জাকারিয়া ইমন,
এহেসান জাকারিয়া,
কবিরুল ইসলাম রুমন,
তামিম আহমদ,
সানাউল ইসলাম সুয়েজ,
সাফওয়ান জাহান চৌধুরী,
সৈয়দ মুফলে উস সালেকীন,
আব্দুল্লাহ আল হোসাইন,
আব্দুল বারী খোবায়েব এবং
শামায়েল রহমান প্রমুখ।