বাংলাদেশ আইন

চালু হলো অনলাইন জিডি সেবা, যশোরের ৯ থানায়

প্রতিবেদকঃ নাজমুজ্জামান

প্রকাশ : ২১-৭-২০২৫ ইং | নিউজটি দেখেছেনঃ ৫১৬৪

পুলিশি সেবা সহজ ও ডিজিটাল করতে যশোর জেলার ৯টি থানায় চালু করা হয়েছে অনলাইন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সেবা। রোববার (২০ জুলাই) রাত ১২টা ১ মিনিটে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় এ সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার রওনক জাহান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার স্বয়ং উপস্থিত থেকে অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) আহসান হাবীব, কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসনাত এবং পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুলসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

আগে অনলাইনে শুধু হারানো ও প্রাপ্তি সংক্রান্ত জিডি করা যেত। এখন থেকে ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের জিডি করা যাবে। থানায় না গিয়েই নাগরিকরা এই সেবা নিতে পারবেন।

পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, "পুলিশি সেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে অনলাইন জিডি চালু করা হয়েছে। এতে সময় ও খরচ কমবে, ভোগান্তিও হ্রাস পাবে। এতে জনগণের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বাড়বে।"

তিনি আরও জানান, এখন থেকে নিখোঁজ ব্যক্তি সংক্রান্ত অভিযোগসহ মোট ২৯ ধরনের অপরাধের বিষয়ে অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি করা যাবে। এজন্য ‘Online GD’ অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করে একবার রেজিস্ট্রেশন করলেই হবে।

সেবা চালুর পর প্রথম অনলাইন জিডি করেন যশোর শহরের শেখহাটি জামরুলতলার বাসিন্দা রহিমা বেগম (৫১)। তিনি জানান, স্বামীর নির্যাতনের বিষয়ে অভিযোগ জানাতে থানায় এসে জানতে পারেন অনলাইন জিডির কথা। ডিউটিরত পুলিশের সহায়তায় নিজের মোবাইল থেকেই তিনি অভিযোগ দিতে সক্ষম হন।

রহিমা বেগম বলেন, "আগে কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে অভিযোগ লিখিয়ে জমা দিতে হতো। এখন মোবাইল থেকেই অভিযোগ করতে পারছি। আগে জানলে বাসা থেকেই দিতাম।"

পুলিশ জানিয়েছে, অনলাইন জিডি করার পর অভিযোগকারী সহজেই জানতে পারবেন তার অভিযোগের সর্বশেষ অবস্থা। তদন্ত কর্মকর্তা কে, কী ব্যবস্থা নিয়েছেন, তাও জানতে পারবেন।

কারও সমস্যা হলে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা হেল্পলাইন ০১৩২০০০১৪২৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। যাদের স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট নেই, তারা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকেও এই সেবা নিতে পারবেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি অনলাইন জিডি ট্র্যাক করা সম্ভব এবং তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগে যশোরের মানুষ যেমন সহজে পুলিশি সেবা পাবেন, তেমনি থানার কাজেও স্বচ্ছতা ও গতি আসবে।