বাংলাদেশ আইন

“লুৎফুজ্জামান বাবর মজলুমদের জীবন্ত প্রতীক, তাঁকে হেয় করা অনুচিত” — অ্যাডভোকেট শিশির মনির

প্রতিবেদকঃ নাজমুজ্জামান

প্রকাশ : ২৮-৭-২০২৫ ইং | নিউজটি দেখেছেনঃ ৫৩৫৪

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে নিয়ে এনসিপি নেতার মন্তব্যে দেশজুড়ে আলোচনা, ফেসবুকে প্রতিবাদ জানালেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।

ডেস্ক রিপোর্ট:

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে উদ্দেশ্য করে নেত্রকোণায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর করা মন্তব্য নিয়ে দেশব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়।

এই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সোমবার (২৮ জুলাই) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন,

"জনাব লুৎফুজ্জামান বাবর মজলুমদের জীবন্ত প্রতীক। তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করে কথা বলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সম্মান প্রদর্শন করুন—তবেই আপনি সম্মান পাবেন।"

কি ঘটেছিল নেত্রকোণায়?
গত রবিবার (২৭ জুলাই) জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নেত্রকোণার মোক্তারপাড়া পুরাতন কালেক্টরেট মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন বলেন—

“বাংলাদেশের বড় ঘটনা ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালান। যদি হ্যান্ডেলই করতে না পারেন, তাহলে নিয়ে আসলেন কেন? দক্ষিণ এশিয়াতে এই অস্ত্র কাহিনীর কারণে বাংলাদেশ সার্বভৌমত্ব হুমকির মধ্যে পড়েছে। অসংখ্য মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছে। আমরা দেখতে পেয়েছি বিচারের নামে প্রহসন হয়েছে।”

পেছনের প্রেক্ষাপট:
২০০৪ সালের ১ এপ্রিল চট্টগ্রামের সিইউএফএল ঘাটে ১০ ট্রাক চোরাচালান অস্ত্র আটক করা হয়। এরপর কর্ণফুলী থানায় অস্ত্র আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা হয়। তদন্তে উঠে আসে, চীনে তৈরি এসব অস্ত্র ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফা’র জন্য আনা হয়েছিল। অস্ত্রের চালান বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

এই মামলায় লুৎফুজ্জামান বাবরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারিক আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উচ্চ আদালতে তিনি খালাস পান।