৫৪ বছরের ইতিহাসে জাতির প্রতিটি সংকটে পাশে থেকেছে সেনাবাহিনী। গহীন জঙ্গলে জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য লড়েছে তারা। এখন সেই বাহিনীকে অপমান করে ‘জাতে ওঠা’র ফ্যাশন চলেছে!
জাতির প্রতিটি সংকটেই সাহসিকতার সঙ্গে পাশে থেকেছে সেনাবাহিনী। ৫৪ বছরের দীর্ঘ ইতিহাস তার সাক্ষ্য বহন করে। দেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের ৯ ভাগেরও বেশি এলাকা রক্ষায় শত শত সেনাসদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, আহত হয়েছেন—এই ভূমি রক্ষার জন্য।
প্রশ্ন হচ্ছে, কে গিয়েছে ওখানে জীবন দিতে? যারা টেলিভিশনের টক শো কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় বড় বুলি আওড়ায়, তাদের সঙ্গে জীবন উৎসর্গকারীদের দূরত্ব যোজন যোজন। আমাদের সহযোদ্ধারা রক্ত দিয়েছে, আর আমরা বছরের পর বছর পাহাড়ি দুর্গম পথে ঘুরেছি শুধুমাত্র দেশের স্বার্থে। অথচ যারা শুধু মুখে দেশপ্রেমের বুলি আওড়ায়, তারা আদৌ কী করেছে দেশের জন্য?
হ্যাঁ, স্বীকার করতে হবে—সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য যদি বাহিনীর বাইরে গিয়ে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কুকর্মে জড়িত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া জরুরি। তবে এরা সেনাবাহিনীর শতকরা এক ভাগও না। অথচ পুরো বাহিনীকে এককথায় দোষারোপ করা এখন যেন একধরনের ‘ফ্যাশনে’ পরিণত হয়েছে—"জাতে উঠার" মাধ্যম হয়ে গেছে!
আশ্চর্যের বিষয় হলো, বেসামরিক আমলারা ১৯৯৬ সালে ‘জনতার মঞ্চ’ নামের যে কর্মসূচি করেছিল, তা দেশদ্রোহিতার সামিল হলেও সেদিকে কেউ আঙুল তোলে না। সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন, বারবার ভোট ডাকাতি, দেশবিরোধী চুক্তিগুলোর প্রায় শতভাগ দায়ী এ বেসামরিক আমলারা। অথচ তারা যেন সবসময়ই ‘তুলসী পাতা ধোয়া’।
আমরা এখনো বুঝতে পারছি না—সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এই পরিকল্পিত প্রচারণা কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে! ভারতের ষড়যন্ত্র আমরা নিজেদের হাতে বাস্তবায়ন করছি—এটাই বাস্তবতা।
তাই আমার আহ্বান, জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনীকে পুলিশি কাজ থেকে অব্যাহতি দিয়ে ব্যারাকে ফিরিয়ে আনতে হবে। মান-সন্মান হারিয়ে, দিনের পর দিন রাস্তায় ঘুরে অপমানিত হবার জন্য সেনাবাহিনী নয়। সেনাবাহিনীর প্রধান কাজ হলো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া, ময়দানে কাজ করা—not policing the streets.
— একজন দায়িত্বশীল সৈনিকের আহ্বান