বাংলাদেশ আইন

সরকারি চাকরিতে আন্দোলন করলে বাধ্যতামূলক অবসরের বিধানসহ সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি

প্রতিবেদকঃ নাজমুজ্জামান

প্রকাশ : ২৪-৭-২০২৫ ইং | নিউজটি দেখেছেনঃ ৫৪৫৫

সরকার সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-কে দ্বিতীয়বারের মতো সংশোধন করে নতুন একটি অধ্যাদেশ জারি করেছে। বুধবার (২৩ জুলাই) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী এই অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেন।

নতুন এই অধ্যাদেশটি “সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫” নামে কার্যকর হবে।

সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, যদি কোনো সরকারি কর্মচারী নিজে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন বা অন্য কোনো সহকর্মীকে তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেন, তাহলে সেটি অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধে তাকে বাধ্যতামূলক অবসর কিংবা চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যেতে পারে।

যদিও অধ্যাদেশে ‘আন্দোলন’ শব্দটি সরাসরি ব্যবহার করা হয়নি, তবে আইনজীবীদের মতে, যেভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তাতে আন্দোলনের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

অধ্যাদেশের ধারা ৩৭(গ) অনুযায়ী, যদি কেউ সরকারি কাজে উপস্থিত হওয়া বা দায়িত্ব পালনে অপর কোনো কর্মচারীকে বাধা দেন, তাহলে তা হবে অসদাচরণ এবং এজন্য তাকে নিম্নরূপ দণ্ড দেওয়া যেতে পারে:

  • নিম্নপদে বা বেতন গ্রেডে অবনমন

  • বাধ্যতামূলক অবসর

  • চাকরি থেকে বরখাস্ত

এই সংশোধনের পেছনে সরকারের যুক্তি হচ্ছে—২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইনকে আরও যুগোপযোগী করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা। যেহেতু সংসদ বর্তমানে বিলুপ্ত অবস্থায় রয়েছে, তাই সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেন, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এতে ২০১৮ সালের আইনের ধারা ৩৭ক-কে সম্পূর্ণরূপে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। নতুন ধারা ৩৭ক-তে বলা হয়েছে, যদি কোনো সরকারি কর্মচারী:

  • বৈধ আদেশ অমান্য করেন

  • সরকার কর্তৃক জারিকৃত কোনো পরিপত্র বা নির্দেশ বাস্তবায়নে বাধা দেন বা অন্যকে প্ররোচিত করেন

  • যৌক্তিক কারণ ছাড়া নিজ দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকেন বা অন্যদের বিরত রাখতে চাপ সৃষ্টি করেন

  • অন্যকে কাজ করতে বাধা দেন

তাহলে এটি অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তিনি শাস্তিযোগ্য হবেন।

অভিযোগের ক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা অভিযোগ গঠন করবেন এবং অভিযুক্ত কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর জন্য ৭ কর্মদিবস সময় দিয়ে নোটিশ দেবেন। সেই নোটিশে ব্যক্তিগতভাবে শুনানিতে অংশ নিতে ইচ্ছুক কি-না, সেটিও জানাতে বলা হবে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা যাবে না। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মচারী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে রিভিউ আবেদন করতে পারবেন। রাষ্ট্রপতির দেওয়া রায়ই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।